ঈশ্বরদীর রূপপুরে জ্বালানি লোডিং শুরু, উৎপাদনের পথে বড় অগ্রগতি
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের বৃহত্তম জ্বালানি প্রকল্পটি চূড়ান্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ৬০ বছর। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এর কার্যকাল আরও ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। একবার জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হলে টানা ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এরপর ধাপে ধাপে এক-তৃতীয়াংশ করে জ্বালানি প্রতিস্থাপন করতে হবে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, রূপপুরের দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে প্রথম ইউনিটে জ্বালানি স্থাপনের কাজ চলছে। এই ইউনিটের চুল্লিতে বিক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম ফুয়েল বান্ডেল প্রয়োজন হবে। প্রতিটি বান্ডেলে ১৫টি করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ রড রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ১৬৮টি বান্ডেল সংগ্রহ করেছে, যার মধ্যে পাঁচটি সংরক্ষণে রাখা হবে।
ইউরেনিয়াম বান্ডেল স্থাপনে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে। এরপর নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন তাপ ব্যবহার করে বাষ্প তৈরি করা হবে, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা করবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, জ্বালানি স্থাপন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম মিলিয়ে প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে এই ধাপ সম্পন্ন হতে পারে। এর পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে এটি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বারই খুলবে না, বরং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

উল্লেখ্য, প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে আর্থিক, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়া। মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশ ঋণ হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে, যা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। রোসাটমের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে।